ভুল রাস্তার মোড়ে

কাটাকুটি

Leave a comment

“আজ এই LBD টা পরব কিন্তু। What do you say?” ওয়ার্ডরোবের ভেতরের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে শালিনীর জড়ানো আওয়াজ টা নীলের কানে পৌঁছেও পৌঁছল না । আজ মন ভালো নেই নীলের, যেই ম্যাগাজিনের সাথে লাস্ট ৪ মাস কাজ করছিল, ইন্টার্নশিপ, আজ ক্যান্সেল হয়ে গেছে। ওর দোষ ও কাজে হোক জীবনের ক্ষেত্রে হোক কিছু বেসিক এথিকস মেনে চলে। তথাকথিত urban reader এর চাহিদা অনুযায়ী ও পারেনি ওর সিগনেচার কাজগুলো একের পর এক made up, মুখরোচক আর্টিকেলএ ব্যবহার করা টা মেনে নিতে। আজ তাই ডেকে অপমান করে কাজের অযোগ্য বলে তাড়িয়ে দিয়েছেন রাহুল স্যার, বিখ্যাত ফোটোগ্রাফার ।একদিন যার সাঙ্গ পেয়ে জীবন ধন্য ভেবেছিল, আজ তার বাঁকা হাসিটা বিষিয়ে দিচ্ছে ভেতর টা। আনমনে শালিনীর নতুন পাওয়া ফ্ল্যাটের সুদৃশ্য কাঁচের সেন্টার টেবিলে আঁকছিল নীল, একটা কাটাকুটির ছক। নিজেকে কেমন মনে হচ্ছিল সেই লম্বালম্বি আর কোণাকুণি দুভাবেই অনেক অদৃশ্য ক্রসের মাঝখানে থমকে যাওয়া একটা অসমাপ্ত বৃত্ত।

ঊফফ শালুক , একটু নিজে decide কর না! নীল গজগজ করে অস্ফুটে। আজ ওদের এক বছর, celebrate করা হবে Marco Polo তে, শালিনীর নতুন পাওয়া প্রমোশনেরও উদযাপন।

“এই দাঁড়া দাঁড়া, LBD কেন?” বলতে বলতে নিজেই উঠে যায় নীল।

নীল চেয়েছিল ওদের একমাসের দিনের মত সেই বাসা হারানো দুটো পাখি হয়ে, অচেনা রাস্তা ধরে, অজানা বাসে চেপে বসে, অনির্দিষ্ট সেইরকম একটা পুকুরপাড়ে বসে কনে দেখা আলোয় এলোমেলো চুলের আদরে উচ্ছলিত শালুকের একটা দুটো ছবি নিতে , আর ছোট্ট কিছু আলগোছ ব্যারিকেড, ঠোঁটের ভেতর ঠোঁট। শালিনীর বিরক্তির সঙ্গে খেলা কাটাকুটি তে হেরে গেছে নীল, কে জানে কেন। তাই আজ Marco Polo।

“কেন? খারাপ কিসে?” শালিনী রেগে যায়।

শালিনী কে নীল এখনও জানায়নি, ওর জব টা চলে যাওয়ার কথা।

বুকের কোথাও একটা ভীষণ চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে; চেনে নীল এটা কে। ঠিক এরকমই হয়েছিল মা যখন শয্যাশায়ী, যেদিন ভোরে মা চলে গেল, তার আগের রাতে। ঠিক এরকমই ব্যথা হয়েছিল ওর পোষা টিয়া একটু অসাবধানের সুযোগ নিয়ে উড়ে যাওয়ার আগে। যাক ওসব, নীল নিজেকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে।

“ব্যাঙ্গালোর থেকে ওই নীল শাড়ি টা এনেছিলি , ওই টা পর না , তোকে অসম্ভব সুন্দর দেখায় !” নীল আলতো কামড় বসায় ওর কানে।

“ইস কত শখ ছেলের । যা তো, আমাকে রেডি হতে দে।“

“ওয়েট শালুক , you know what to do!” নীল চোখ টেপে।

“নীল , not now! We are already late!” শালিনী সযত্নে কেয়ারি করা ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত ভাবে তাকায় , কোথাও একটা না’বলা ভেসে আসে, “ডিসগাসটিং!”।

নীল ততক্ষণে পেন দিয়ে নিজের হাতে একেও ফেলেছে, ছোট্ট একটা কাটাকুটির ছক।

“শালুক, তুই তো ক্রস!”  নীল এর চোখের কোণ ভিজে এসেছে আজ।

ছেলেটা মেট্রোর দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে একমনে হাতে আকিবুকি কাটছিল। শালিনী সিটে বসে, ফাঁকা ট্রেন বাস মেট্রোয়ে মানুষ কে খুটিয়ে observe করা তার অভ্যেস । শালিনী আনমনা ছিল, সদ্য ব্রেক আপ, বাড়ি থেকে বিয়ের চেষ্টার প্রছন্ন একটা আভাস কালকেই পেয়েছে মা বাবার চাপা আলোচনায়।

ছেলেটা কেমন অদ্ভুত, একবার কিসব আঁকছে হাতে, আবার ঘষে পেন দিয়ে তুলছে আবার আঁকছে। কোঁকড়া চুল টেনে একটা পনিটেল করা। একটা খাদির কুর্তা আর নীল ডেনিম পরনে। টিপিক্যাল আতেল। শালিনী-র কৌতূহল হল , অযাচিত। সামনেই নামবে ও, উঠে দাঁড়ালো।  এক ঝলক উঁকি মারারও ইচ্ছে এই ভরদুপুরি artist এর শিল্পকর্মে।

ওমা! কি অদ্ভুত! একা একা আবার কাটাকুটি ও খেলা যায় নাকি? আজব ছেলে তো!

একটা অসমাপ্ত ছক, এখনও ৪টে দান বাকি।

কি করছে লোক টা? ধুরর পাগল টাগল নাকি?

ইস বা দিকের কোণে ক্রস টা না বসিয়ে ডান দিকের নিচের কোণে বসাতে পারত!  জেতার দান!

ধুরর একী? একা একা কি বোকার মতন খেলছে লোকটা! আর শালিনীও কিনা তার এই খামখেয়ালিপনায় মশগুল? কি যে হয় মাঝে মাঝে!

“Station রবীন্দ্র সরোবর” যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর এর জানান ভেসে আসতেই হাত থেকে কালো পেন টা পড়ে  গেল ছেলেটার। শালিনীর  সামনেই। খানিক ইতস্তত করেও নিচু হল পেন টা তুলতে।

ছেলেটার অবাক কেমন চমকে যাওয়া দৃষ্টি উপেক্ষা করেই শালিনী হাত বাড়াল পেন টা ফিরিয়ে দিতে। বা হাতের উন্মুক্ত ছকটা দেখে কেমন একটা বেপরোয়া খেয়াল হল শালিনীর। মুহূর্তে শেষ ক্রস টা বসিয়ে দিল সঠিক কোণটায়ে , একটা ভীত-লজ্জিত বিজয়ীর হাসি নিয়ে নেমে গেল অটোমেটিক দরজা দিয়ে। পেছন ঘুরে দেখল ছেলেটা মুখ নামিয়ে ছকটা দেখছে, ফর্সা গালে একচিলতে লালের আভা যেন।

তারপর ছিল কয়েকটা দিন, কয়েকটা থমকে যাওয়া ফাঁকা মেট্রোর পড়ন্ত বিকেল, আর কয়েকটা কাটাকুটির ছক। জিতুক,হারুক, কোনদিন ক্রস নেওয়ার ব্যতয় হয়নি শালিনীর।

নীল সেনগুপ্ত তখন ফ্রীলান্স কাজ করছে, ফটোগ্রাফি। বেখেয়ালি, আধপাগল, প্রচণ্ড লাইভলি ছেলেটায় মজতে বেশিদিন লাগেনি শান্ত, তীব্র careeristic শালিনীর।  কদিন খুউব খুব পাগলামি করে, ডানা ঝটপটিয়ে কেটে গেছিল দুজনের। ফোঁড়ন এর ঝাঁঝ টা কাটতেই কেমন একটা মিশ খাচ্ছিল না যেন সবকিছু, শালিনীর মনে হতে থাকল।

নীলের সবচেয়ে বড় পাগলামি, যেই জিনিস নিয়ে শালিনীর সঙ্গে অনেক তর্ক – বিতর্ক করেও কিছু decide হচ্ছে না, সেটা শেষমেশ মেলানো হবে কাটাকুটি দিয়ে। প্রথম দিকে শালিনী নিজেই হেসে হেসে বলত, দাঁড়া দাঁড়া , আর এঁকে ফেলত একটা চেনা ছক, সেটা নীলের হাতের ওপরেই হোক বা নিজের ফ্রেশ assignment এর শেষ পাতায়। তারপর ধীরে ধীরে ওর শালুকের  উৎসাহ টা দায় সারায় পরিণত হল, আজকাল নিতান্তই বিরক্তি, বোঝে সেটা নীল।

Jouralism এ গ্র্যাজুয়েট হওয়ার কয়েকমাসের মাথায় স্রেফ প্রচণ্ড চেষ্টা আর উদ্যমের জেরে একটা  leading সংবাদপত্রে চাকরি টা পেয়ে যায় শালিনী। উপরে উঠতে বেশি সময় লাগেনি ওর, অসম্ভব পরিশ্রমী আর ফোকাসড, চেনে ওকে নীল আর মনে মনে গর্ব হয় সত্যি, তার শালুক কে নিয়ে। তার Work hours এ কল বা মেসেজ পাঠানো strictly নিষেধ। যখন দিনের শেষে ফাইনাল এডিটিং চলছে, বা যখন বস অয়ন ব্যানার্জির সঙ্গে “confidential session” চলছে তখনও। “ শালুক তুই আরও পারবি দ্যাখ, অনেকটা রাস্তা বাকি এখনও তোর,” নামী রেস্তরা বনাম ময়দানের সেই পিপুল গাছ টার কাটাকুটি তে হেরে গিয়ে বলে যায় নীল, অমলিন।  শালিনী আলতো হাসে, মলিন, ধরা পরে যায় নীলের আচমকা স্ন্যাপে।

একটার পর একটা ছোটবড় কাজ ছেড়েছে নীল, শুধুমাত্র ওর এথিকস, বা ওর কাজের ধরনের সাথে খাপ না খাওয়ায়, বা নিছকই খেয়ালিপনা ওর। এর মধ্যে কয়েকটা এক্সিবিশন হয়েছে ওর ফটো নিয়ে, বেশ নামডাক ও হয়েছে, কিন্তু নীল আজও ভবঘুরে, খেয়ালি, আধপাগল; ঠিক প্রথম দিন টার মতনই। শালিনীর নিউজপেপারেই একটা ভাল অফার এসছিল নীলের, “শালুক is right. একসাথে কাজ করলে আর কাজ হবে না সারাদিন।“ নীল মনে মনে লাজুক হাসে। শালিনীর নতুন ফ্ল্যাট টায় কেমন দমবন্ধ লাগে ওর, বলেনি শালুক কে।

শালিনী অনেকদিন ধরেই ভাবছে বলে ফেলবে, কিন্তু ছেলে টা এখনও এত সরল, বাচ্চামো করে, কিছুতেই বলে উঠতে পারেনি শালিনী, প্রায় দেড় মাস হতে চলল। নিজের মনেও একটা শীতের বিকেলের কমলা-হলুদ রোদের মত খারাপ লাগা আছে, কিন্তু কোন মানেই খুজে পাচ্ছে না আর এই বোকা বোকা রিলেশন টা টিকিয়ে রাখার। অয়নের সাথে সম্পর্ক টা কদিনে বেডরুম বা অফিস রুমের বাইরে বেরিয়ে বেশ গাঢ় হয়েছে, বুঝতে পারছে ও। অয়ন সাংঘাতিক careeristic, non-comprising, practical একজন, শালিনীর মতই। কতই বা বড় শালিনীর চেয়ে, hardly ৭-৮ বছর, এখনই দু-দুটো লাক্সারি কার, second ফ্ল্যাট টাও বুকিং done।

Shit! দেখতে দেখতে anniversary টাও চলে এলো, শালিনী বেমালুম ভুলে গেছিল, নাহলে এতদিন linger করতই না ব্রেক আপ টা করতে। সেদিন দুপুরে নীলের ছোট পায়রার খুপচির মত ফ্ল্যাট টায় খানিক শরীরঘন হওয়ার পর শালিনীর চোখ পড়ে যায় টেবিল ক্যালেন্ডার টায়। ওদের দিন টা লাল গোল করে পাশে কাটাকুটি লেখা, আর একটা চেনা ছক আঁকা ।

আজ একটুও ইচ্ছে নেই শালিনীর যাওয়ার, তবু খারাপ লাগা টা কে এক ফুয়ে নিভিয়ে দিয়ে আজ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যা হওয়ার হোক, আর আটকে রাখবে না নিজেকে এই baseless সম্পর্ক টায়।

Taxi তে যেতে যেতে বুকের চিনচিন ভাব টা বাড়ছিল নীলের, আভাস কিছু একটা পাচ্ছিল ও। LBD তে ভীষণ লাস্যময়ী লাগছিল শালুক কে। নীলের চোখ ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল,  মোবাইলে নিমগ্ন শালুক কে দেখে।

CandleLight Dinner এর শেষ কোর্সে নীলের বাড়িয়ে দেওয়া হাত থেকে একটু দূরে হাত টা রেখে শালিনী casually জিজ্ঞেস করেছিল, কাজকর্ম কেমন চলছে? নীল বলেই দিল, জব টা আর নেই ড়ে শালুক, ওই রাহুল মাল টা এত ছোটলোক জানিস…”

“আহহ নীল, এটা একটা ভদ্র elegant place। ঠিকঠাক বিহেভ করতে না জানলে আসিস না এসব জায়গায়। “ শালিনীর বিরক্তি টা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। আর দেরি করেনি ও, বলেই দিল।

নীল জানত, জানতই ও। তাই আজকেও প্রথম দিনের মত অমলিন হাসল একটু।

“শালুক, যেতে দেব না তোকে, দেবই না” , হঠাৎ ছাইচাপা আগুনের মত ফুঁসে উঠল নীল। শালিনী চমকে উঠল। “নীল বোঝ তুই, আর কতদিন ছেলেমানুষি করবি?”

“না শালুক, I wont, I just wont let you go” , নীলের স্বরে চাপা গর্জন।

শালিনীর আর পোষাচ্ছিল না এই embarrassing melodrama টা। ও চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।

“শালুক, যাস না, প্লিজ।“ এসব চোখের জলটল অসহ্য লাগে শালিনীর।

“শালুক, প্লিজ, আর একবার , এই খেলা টাকেই সিদ্ধান্ত নিতে দে শালুক, আজও।“

শুধুমাত্র scene create করা টা কে আটকাতে শালুক রাজি হয়েছিল সেদিন। ওর রুমাল টায় নীল এঁকে ফেলেছে ততক্ষণে। ১৫ সেকেন্ডে জিতে গেল শালিনী। easy win।রুমাল টা টেনে নিয়ে ঝোরো হাওয়ার  মত বেরিয়ে যেতে যেতে শুনেছিল একটা ভেঙ্গে পড়ার আওয়াজ।

আজকাল এত ব্যস্ততা, নিজের report গুলোর বাইরে আর নিউজ গুলো সেরকম দেখাও হয়না। অয়ন এখন senior editor, editing এও হেল্প করে শালিনী প্রচুর।

আজ দুপুরে অয়নের অফিসে তলব পড়ল। অনেকক্ষণ আদরের পর অয়ন কয়েকটা নিউজ একটু দেখে নিতে বলল শালিনী কে। শেষ খবর টায়ে থমকে গেল শালিনী, সেই অনেকদিন আগের বিকেলবেলার মেট্রো তে সময় যেমন থমকে গেছিল কাটাকুটির ছকে। স্বল্পখ্যাত ফ্রীলান্স ফটোগ্রাফার নীল সেনগুপ্তর মৃত্যুর খবর। ড্রাগ ওভারডোজ।

মন টা ভারি হয়ে ছিল কেমন সারাদুপুর। বিকেলে তাই অয়নকে বলল বাইরে খেতে যাবে কোথাও। ওয়ারড্রবের থেকে একটা নীল শাড়ি বের করে পড়ল শালিনী।  পুরনো একটা রুমাল ফেলে রেখেছিল এক কোণে, একটু ইচ্ছে করেই। বের করে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল খানিক, আর হঠাৎ মেঘভাঙ্গা বৃষ্টি নামল জানলার কাঁচে। মেক-আপ টা ধুয়ে যাবে, এটা বুঝে সামলে নিতে নিতে চোখ পড়ল রুমালটার ওপরের ছক টায়।।

একী!!! ডানদিকের নিচের কোণে একটা গোল বসিয়ে দিলেই তো শিওর জেতা ছিল। শালিনীর জেতার দানের ঠিক আগের চাল টা, তা না করে ও মাঝখানে বসাতে গেল কেন? মানে? তবে? আমার ক্রস? এতদিন প্রায় একটাও গেম এ না জেতা?? কোনদিন তো লক্ষই করেনি শালিনী! নিস্পাপ কিছু জেতার আনন্দ বা পরের দিকে একরাশ বিরক্তির মাঝে একদিনও তো দ্বিতীয়বারের জন্য তাকিয়ে দেখেনি ছক গুলো তে !! নিজে সবসময় ক্রস নিত, একটা নিষ্ঠুর আনন্দ ছিল ওই বোকা বোকা idiotic দেখতে গোল গুলো কে সরিয়ে দেওয়ায়। আজ তো ওরা হেরেও হারিয়ে দিল। এবার কোথায় যাবে শালিনী ? চিরকাল কাটতে শিখে এসে আজ যে বৃত্ত তে আটকা পরে গেল, কিভাবে বাঁচবে শালুক?  জানলার কাঁচে গভীর মেঘের ছায়ায় একজোড়া বিস্ফারিত চোখের জলছবি ধরা পড়ল না।

tic tac toe

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s